শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষে ফেরানোর পরিবেশ সৃষ্টি, জাতীয় পাঠ্যক্রম পর্যালোচনা ও কারিগরি শিক্ষার আধুনিকায়নকে শিক্ষা খাতের তিন অগ্রাধিকার হিসেবে ঘোষণা করেছেন নতুন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন।
বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সভাকক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি নতুন সরকারের এ পদক্ষেপের কথা জানান।
এসময় শিক্ষা নিয়ে নতুন সরকারের ১২টি পরিকল্পনা থাকার কথাও তুলে ধরা হয়। পরে মন্ত্রী সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন। এসময় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজও কথা বলেন।
সবশেষ বিএনপি সরকারে শিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করা মিলন এবার একই সঙ্গে শিক্ষার পাশাপাশি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বও পেয়েছেন।
আগের দফায় দেশে বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষায় নকল কমাতে ভূমিকা রেখে প্রশংসা পাওয়া মিলন আশা করছেন অতীতের মতো তার আর নকলবিরোধী অভিযানের প্রয়োজন হবে না।
এক প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “এক সময় দেশে মব হয়েছে, শিক্ষার্থীরা অটোপাস নিয়েছে। এই সংস্কৃতিতে আর ফিরে যাবে না দেশ।”
প্রয়োজন অনুযায়ী শিক্ষকদের চাহিদা মেটানোর কাজ সরকারই করবে তুলে ধরে তিনি বলেন, শিক্ষকদের নানা দাবি-দাওয়া নিয়ে আর আন্দোলন করতে হবে না।
“আপনি শিক্ষকতা করবেন, পাশাপাশি আন্দোলন করবেন–এটা হতে পারে না। আপনাদের দাবি-দাওয়া যা আসে, আমরা তা দেখব। রাজপথ দখল করে কোনো দাবি-দাওয়া আদায়ের প্রয়োজন নেই।
“আমরা বুঝি কোনটা দিতে হবে, কোনটা দিতে হবে না। আমরা তাদের (শিক্ষক) পক্ষেই থাকি, কেননা তারা তো মানুষ গড়ার কারিগর।”
দুর্নীতি রোধে শিক্ষা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের বদলি স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে করতে অ্যাপ চালুর পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “বদলি হবে মেধার ভিত্তিতে, কোনো প্রকার দুর্নীতি ছাড়া। অ্যাপে সব তথ্য থাকবে, অটোমেটিক সিস্টেমে বদলি হবে।”
এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলির প্রক্রিয়াটিও যত তাড়াতাড়ি সম্ভব চালুর আশা প্রকাশ করে মিলন বলেন, তা চালু না হওয়া পর্যন্ত ‘সিস্টেমে’ কোনো ত্রুটি থাকলে তা খতিয়ে দেখা হবে।
ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে সরকারি নীতিমালার আওতায় আনার বিষয়ে পর্যায়ক্রমে পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও বলেন শিক্ষামন্ত্রী।
নিবন্ধন ছাড়া কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালনার সুযোগ থাকবে না।
বেসরকারি শিক্ষকদের অবসর ও কল্যাণ ভাতা দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় মন্ত্রী উদ্বেগ প্রকাশ করেন। বলেন, “এই ট্রাস্ট দ্রুত পুনর্গঠন ও বকেয়া ভাতা পরিশোধের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এটি সরকারের তাৎক্ষণিক অগ্রাধিকার তালিকায় রয়েছে।”
শিক্ষা নিয়ে ১২ পরিকল্পনা
সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ শিক্ষা নিয়ে নতুন সরকারের ১২টি পরিকল্পনা থাকা কথা তুলে ধরে বলেন, সরকার শিক্ষা খাতকে রাষ্ট্রের প্রথম বিনিয়োগ, মানবসম্পদের মূল কারখানা এবং জাতি গঠনের প্রধান প্রকল্প হিসেবে দেখবে।
“আমরা শিক্ষা নিয়ে রাজনীতি করব না, আমরা শিক্ষা দিয়ে রাষ্ট্র গড়ব।”
এ খাতের উন্নয়ন বাজেট বাস্তবায়ন, উন্নয়ন ব্যয়কে অগ্রাধিকার, ‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’ নীতি গ্রহণ, তৃতীয় ভাষা শিক্ষা বাস্তবায়ন, মাধ্যমিক থেকে খেলাধুলা বাধ্যতামূলক করা, পাঠ্যক্রম ও পরীক্ষায় কারিগরি সংস্কার, উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে জ্ঞান চর্চার প্রতিষ্ঠান হিসেবে রূপান্তর এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করার কর্মপরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন তিনি।
তিনি বলেন, এগুলো তিন ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করছেন তারা।

