চাঁদের চারপাশে ঐতিহাসিক অভিযানের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আর্টেমিস–২–এর নভোচারীরা এখন শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত।
নাসা জানিয়েছে, চাঁদের কক্ষপথে প্রবেশের আগে তারা চাঁদের পৃষ্ঠের বৈশিষ্ট্য পর্যবেক্ষণ, ছবি তোলা এবং বৈজ্ঞানিক তথ্য সংগ্রহের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
শনিবার গ্রিনিচ মান সময় বিকেল ৪টা ৩৫ মিনিটে নভোচারীরা পৃথিবী থেকে প্রায় ১ লাখ ৬৯ হাজার মাইল দূরে অবস্থান করছিলেন। আর চাঁদ থেকে তাদের দূরত্ব ছিল প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার ৭০০ মাইল।
মিশনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধাপ শুরু হবে রোববার রাত থেকে সোমবারের মধ্যে, যখন মহাকাশযানটি ‘চাঁদের প্রভাব বলয়ে’ প্রবেশ করবে। এ সময় চাঁদের মাধ্যাকর্ষণ শক্তি মহাকাশযানকে নিজের দিকে টানতে শুরু করবে, যা কক্ষপথে প্রবেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী চললে ওরিয়ন মহাকাশযান–এ থাকা নভোচারীরা এমন দূরত্বে পৌঁছাতে পারেন, যেখানে এর আগে কোনো মানুষ যায়নি।
মিশনের কমান্ডার রিড উইজম্যান জানিয়েছেন, মহাকাশযানে সবার মনোবল দৃঢ়। পরিবারের সঙ্গে মহাকাশ থেকে কথা বলতে পেরে তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, এটি তার জীবনের অন্যতম সেরা মুহূর্ত।
এই অভিযানে তার সঙ্গে রয়েছেন ক্রিস্টিনা কোচ, ভিক্টর গ্লোভার এবং কানাডার জেরেমি হ্যানসেন।
নভোচারীরা ইতোমধ্যে চাঁদের পৃষ্ঠের বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য—প্রাচীন লাভাপ্রবাহ ও গর্ত—পর্যবেক্ষণের জন্য প্রস্তুতি নিয়েছেন। তারা এমন উচ্চতায় (প্রায় ৪ হাজার মাইল) চাঁদের চারপাশে ঘুরবেন, যা ১৯৬০ ও ১৯৭০-এর দশকের অ্যাপোলো মিশন–এর তুলনায় অনেক বেশি। ফলে তারা চাঁদের পুরো গোলাকার পৃষ্ঠ, এমনকি দূরবর্তী অংশও স্পষ্টভাবে দেখতে পারবেন।
নভোচারী ক্রিস্টিনা কোচ জানান, তারা প্রথমবারের মতো চাঁদের অপর পাশ কাছ থেকে দেখেছেন, যা ছিল “অসাধারণ অভিজ্ঞতা”।
মিশনে এবার একটি নতুন সংযোজনও রয়েছে—প্রথমবারের মতো মহাকাশযাত্রায় স্মার্টফোন ব্যবহার করছেন নভোচারীরা। এর মাধ্যমে তারা সহজে ছবি তুলতে পারছেন।
তবে মিশনে কিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে। ওরিয়ন মহাকাশযানের শৌচাগার ব্যবস্থায় ত্রুটি দেখা দিয়েছে। বরফ জমে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় নভোচারীদের মাঝে মাঝে বিকল্প ইউরিন ব্যাগ ব্যবহার করতে হচ্ছে। সমস্যা সমাধানে কাজ করছে নাসা।
এই মিশন আর্টেমিস প্রোগ্রাম–এর অংশ, যার লক্ষ্য ভবিষ্যতে চাঁদে মানুষের স্থায়ী উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং সেখান থেকে আরও গভীর মহাকাশ অনুসন্ধানের পথ তৈরি করা।
Top of Form
Bottom of Form

