যার ইশারায় নির্ধারিত হতো মধ্যপ্রাচ্যর রাজনীতির গতিপথ, তেহরানের সুরক্ষিত কম্পাউন্ডে ধ্বংসস্তূপের নিচে পাওয়া যায় ইরানের সেই সর্বোচ্চ নেতার নিথর দেহ।
ইরানীরা মনে করে, ৮৬ বছর বয়সী এই নেতার মৃত্যু কেবল একটি দেশের প্রধানের বিদায় নয়, বরং একটি পুরো আদর্শিক যুগের অবসান।
কে ছিলেন এই আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি?
১৯৩৯ সালে ইরানের মাশহাদ শহরে জন্ম নেওয়া খামেনি ছিলেন আধুনিক ইরানের ইতিহাসের দ্বিতীয় ‘সুপ্রিম লিডার’। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর তিনি রুহুল্লাহ খোমেনির ডান হাত হিসেবে পরিচিতি পান।
১৯৮১ থেকে ১৯৮৯ সাল পর্যন্ত ইরানের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করার পর, খোমেনির মৃত্যুর পর তিনি ইরানের সর্বোচ্চ নেতার আসনে বসেন। দীর্ঘ ৩৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে তিনি ছিলেন ইরানের একচ্ছত্র ক্ষমতার অধিকারী। তাঁর একটি ইশারায় পারস্য উপসাগর থেকে শুরু করে লেবানন, সিরিয়া এবং ইয়েমেনের রাজনীতি ও যুদ্ধ পরিচালিত হতো।
খামেনি কেবল একজন ধর্মীয় নেতা ছিলেন না, তিনি ছিলেন একজন ঝানু রাজনৈতিক কৌশলী। পশ্চিমা বিশ্বের অবরোধ আর চাপের মুখেও তিনি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং ব্যালিস্টিক মিসাইল সিস্টেমকে অপ্রতিদ্বন্দ্বী করে তুলেছিলেন। কিন্তু তাঁর এই ‘রেজিস্ট্যান্স’ বা প্রতিরোধ যুদ্ধই আজ তাঁকে এবং তাঁর দেশকে এক ভয়াবহ সংঘাতের মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে।
সেই শেষ রাত: যেভাবে লণ্ডভণ্ড হলো তেহরান
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর দাবি অনুযায়ী, অপারেশনটি ছিল অত্যন্ত নিখুঁত। প্রায় ২০০টি যুদ্ধবিমান এবং কয়েকশ ড্রোন একযোগে ইরানের আকাশসীমা ভেদ করে। লক্ষ্যবস্তু ছিল খামেনির বাসভবনসহ ৫০০টি স্ট্র্যাটেজিক পয়েন্ট। রয়টার্সের তথ্যমতে, ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থাগুলো খামেনির অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার পরই বাঙ্কার বাস্টার বোমায় লণ্ডভণ্ড করে দেয় তাঁর দপ্তর।
এখন কী হবে ইরানের?
আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি বেঁচে থাকতে বলেছিলেন, “ইসরায়েল পরবর্তী ২৫ বছর দেখবে না।” কিন্তু ভাগ্যের পরিহাসে আজ তাঁর নিজের মৃত্যুর খবরই বিশ্বজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। পারস্যের এই ‘আইরন ম্যান’-এর বিদায়ের পর মধ্যপ্রাচ্যর ভূ-রাজনীতি, ধর্মের রাজনীতি, তেলের রাজনীতি, ক্ষমতার রাজনীতি কোথায় গিয়ে পৌছায়—তা সময়ই বলে দেবে।

